পোস্টগুলি

অক্টোবর, ২০১৭ থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ডাইরির শেষ পাতা

“লেখাগুলা লিখতে খুব কষ্ট হচ্ছে। শরীরে আর এক ফোটাও শক্তি নেই। চোখগুলা বন্ধ হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে। তবুও আমি লিখছি, কি লিখছি কিছুই জানি না। শুধু জানি এই লেখাটা শেষ করে যেতে হবে। জলের মত রক্ত পড়ছে। ভাবতেই অবাক লাগে যেই আমি কোরবানির সময় গরুর রক্ত দেখলেও শিউরে উঠতাম, সেই আমি কিভাবে এখনও বেঁচে আছি। রাত চারটা বেজে দুই মিনিট। পাশের ঘরে বাবা মা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। আর আমি… মারা যাচ্ছি। কাউকে যে ডাকব সেই শক্তি ও সাহস কোণটাই নেই।ঘড়ীর কাটার স্পষ্ট শব্দগুলো প্রতি সেকেন্ডে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আর বেশি সময় নেই।  খুব বাঁচতে ইচ্ছা করছে। খুব। সবাইকে আরেকবার দেখতে ইচ্ছা করছে। চোখের সামনে শুধু শেষবার দেখে আসা সমুদ্রের ঢেউগুলা ভাসছে। বেঁচে থাকলে হয়তো আবার বেড়াতে যেতাম। মাত্র দু মিনিট আগেও আমি মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করছিলাম। একটা মানুষ কখন মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করে জানেন?? যখন নিজের কাছে নিজের জিবনের আর কোন মূল্য থাকেনা। আমার কাছে জীবন মানে ছিল এক চাপা ডিপ্রেশনের নাম। তাই কেটে দিয়েছি। হুম রান্নাঘর থেকে ধারালো ছুরিটা এনে আমি আমার হাতের রগ কেটে দিয়েছি। সবকিছু এখনো দুরসপ্নের মত লাগছে। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ প...

আমি

নাবিলের জন্মতেও আমি ততটা খুশি হয়নি যতটা নিলার মৃত্যুতে কষ্ট পেয়েছিলাম। সত্যি বলতে আজও আমি নাবিলের দিকে বাবার দৃষ্টি নিয়ে তাকাইনি। মনের মধ্যে সবসময় একটা ক্ষোভ ছিল। যে সন্তান জন্মের সময়ই তার মাকে মেরে ফেলে সে আর যাই হোক ভালবাসায় সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু নাবিল ছিল অন্যরকম। সবসময় হাসিখুশি। আমার অবহেলা কখন কষ্ট হিসেবে তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আমি কখন তাকে ঘুরতে নিয়ে যায়নি। কখন তার আঁকা ছবিগুলো দেখতে চাইনি। রাতে বাড়ি ফিরার পর কখন তাকে জিজ্ঞেস করিনি সে খেয়েছে কিনা। স্কুলের টিচাররা যখন কোন কনভারসেশনে ডাকতো প্রতিবারই আমি কোন না কোন নতুন অযুহাত তৈরি করে সূক্ষ্মভাবে তা এড়িয়ে যেতাম। আমার জিবনে নাবিলের কখনই কোন স্থান ছিল না। নাবিলের কাছে হয়ত ছিল, তাই হয়ত তার বেডরুমে আঁকা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপরে ছিল আমার আর নিলার মাঝখানে ছোট্ট একটা নাবিল। নিলার ফ্যামিলি কখন আমার আর নিলার বিয়েটাকে মেনে নেয়নি। কিন্তু নিলা সবসময় বিশ্বাস করত একদিন না একদিন তারা আমাদের মেনে নিবেন। আমি খুব বড় একটা চারকি করতাম না। ব্যাংকার। নিলাকে খুশি করার জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারতাম না। তবুও আমরা খুব খুশি ছিলাম। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়ে...