পোস্টগুলি

2017 থেকে পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে

ডাইরির শেষ পাতা

“লেখাগুলা লিখতে খুব কষ্ট হচ্ছে। শরীরে আর এক ফোটাও শক্তি নেই। চোখগুলা বন্ধ হওয়ার জন্য জোরাজুরি করছে। তবুও আমি লিখছি, কি লিখছি কিছুই জানি না। শুধু জানি এই লেখাটা শেষ করে যেতে হবে। জলের মত রক্ত পড়ছে। ভাবতেই অবাক লাগে যেই আমি কোরবানির সময় গরুর রক্ত দেখলেও শিউরে উঠতাম, সেই আমি কিভাবে এখনও বেঁচে আছি। রাত চারটা বেজে দুই মিনিট। পাশের ঘরে বাবা মা নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে। আর আমি… মারা যাচ্ছি। কাউকে যে ডাকব সেই শক্তি ও সাহস কোণটাই নেই।ঘড়ীর কাটার স্পষ্ট শব্দগুলো প্রতি সেকেন্ডে মনে করিয়ে দিচ্ছে, আর বেশি সময় নেই।  খুব বাঁচতে ইচ্ছা করছে। খুব। সবাইকে আরেকবার দেখতে ইচ্ছা করছে। চোখের সামনে শুধু শেষবার দেখে আসা সমুদ্রের ঢেউগুলা ভাসছে। বেঁচে থাকলে হয়তো আবার বেড়াতে যেতাম। মাত্র দু মিনিট আগেও আমি মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করছিলাম। একটা মানুষ কখন মৃত্যুর জন্য প্রার্থনা করে জানেন?? যখন নিজের কাছে নিজের জিবনের আর কোন মূল্য থাকেনা। আমার কাছে জীবন মানে ছিল এক চাপা ডিপ্রেশনের নাম। তাই কেটে দিয়েছি। হুম রান্নাঘর থেকে ধারালো ছুরিটা এনে আমি আমার হাতের রগ কেটে দিয়েছি। সবকিছু এখনো দুরসপ্নের মত লাগছে। মনে হচ্ছে কিছুক্ষণ প...

আমি

নাবিলের জন্মতেও আমি ততটা খুশি হয়নি যতটা নিলার মৃত্যুতে কষ্ট পেয়েছিলাম। সত্যি বলতে আজও আমি নাবিলের দিকে বাবার দৃষ্টি নিয়ে তাকাইনি। মনের মধ্যে সবসময় একটা ক্ষোভ ছিল। যে সন্তান জন্মের সময়ই তার মাকে মেরে ফেলে সে আর যাই হোক ভালবাসায় সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু নাবিল ছিল অন্যরকম। সবসময় হাসিখুশি। আমার অবহেলা কখন কষ্ট হিসেবে তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আমি কখন তাকে ঘুরতে নিয়ে যায়নি। কখন তার আঁকা ছবিগুলো দেখতে চাইনি। রাতে বাড়ি ফিরার পর কখন তাকে জিজ্ঞেস করিনি সে খেয়েছে কিনা। স্কুলের টিচাররা যখন কোন কনভারসেশনে ডাকতো প্রতিবারই আমি কোন না কোন নতুন অযুহাত তৈরি করে সূক্ষ্মভাবে তা এড়িয়ে যেতাম। আমার জিবনে নাবিলের কখনই কোন স্থান ছিল না। নাবিলের কাছে হয়ত ছিল, তাই হয়ত তার বেডরুমে আঁকা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপরে ছিল আমার আর নিলার মাঝখানে ছোট্ট একটা নাবিল। নিলার ফ্যামিলি কখন আমার আর নিলার বিয়েটাকে মেনে নেয়নি। কিন্তু নিলা সবসময় বিশ্বাস করত একদিন না একদিন তারা আমাদের মেনে নিবেন। আমি খুব বড় একটা চারকি করতাম না। ব্যাংকার। নিলাকে খুশি করার জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারতাম না। তবুও আমরা খুব খুশি ছিলাম। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়ে...

টুকুন

সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক ছেলেটাকে দেখে আমি একটা কথাই বলেছিলাম, "এইটুকুন বাচ্চা, এত সুন্দর হয় কেমনে?" সেই থেকে তার নাম হয়ে গেল টুকুন। "এইটুকুন" থেকে "টুকুন"। ল্যাটিন শব্দ থেকে যেমন অনেক ইংরেজি নাম রাখা হয়, ব্যাপারটা অনেকটা সেরকম। পরে আর কোন ভাল নাম রাখা হয়নি। তার মা অবশ্য আবির হাসান বলে ডাকে কিন্তু সেটা স্থায়ী না। ছেলেটা আমার কিছুই পায়নি। তার বাবার মত তীক্ষ্ণ চোখ, লম্বা নাক আর কানের পাশে কালো দাগটা পেয়েছে। তার বাবাকে আমি দেখিনি, কিন্তু তার মাকে প্রায়ই এসব বলতে শুনেছি। আমার নিঃসঙ্গ জিবনের তখন আরেকজন সঙ্গী হল টুকুন। ...দেখ টুকুন, বাংলাদেশ আর পাকিস্তানের খেলা হচ্ছে। তোর কি মনে হয় কে জিতবে? ...আ-আ-আআ-আ ...কি বলছিছ? পরিষ্কার করে বল। বুঝিনা তো। ...আ-আ-আই ...কিহ, পাকিস্তান জিতবে? গাধার বাচ্চা, তুই তো এটাই বলবি। তুই তো আর আমাদের মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে কিছু জানিস না। তখনও আমরা পাকিস্তানকে হারিয়েছি, আজকেও হারাব। ...আ-আইইই ...অসভ্যের মত হাসবি না। আচ্ছা ঠিক আছে, আজকে যদি পাকিস্তান জিতে তাহলে আমি টিভি সেটটা ভেঙ্গে ফেলব,আর যদি বাংলাদেশ জিতে তাহলে তোকে খাট থেকে নিচে আছ...

ওটা কিছু নয় __নির্মলেন্দু গুন

এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছ আমার অস্তিত্ব? পাচ্ছ না? একটু দাড়াও আমি তৈরি হয়ে নেই। এইবার হাত দাও, টের পাচ্ছ আমার অস্তিত্ব? পাচ্ছ না? তোমার জন্মান্ধ চোখে শুধু ভুল অন্ধকার। ওটা নয়, ওটা চুল। এই হল আমার আঙ্গুল, এইবার স্পর্শ করো, -না, না, না, -ওটা নয়, ওটা কণ্ঠনালি, গরলবিশিষ্ট এক শিল্পীর মাটির ভাস্কার্য, ওটা অগ্নি নয়, ওই আমি-আমার যৌবন। সুখের সামান্য নিচে কেটে ফেলা যন্ত্রনার কবন্ধ-প্রেমিক, ওখানে কি খোঁজ তুমি? ওটা কিছু নয়, ওটা দুঃখ; রমণীর ভালোবাসা না-পাওয়ার চিহ্ন বুকে নিয়ে ওটা নদী, নীল হয়ে জমে আছে ঘাসে,-এর ঠিক ডানপাশে, ওইখানে হাত দাও, হ্যাঁ, ওটা বুক, ওইখানে হাত রাখো, ওটাই হৃদয়। ওইখানে থাকে প্রেম,থাকে সৃতি,থাকে সুখ, প্রেমের সিম্পনি; ওই বুকে প্রেম ছিল,সৃতি ছিল, সব ছিল তুমিই থাকো নি। #উৎসর্গ;  ওই মানুষটাকে যে একদিন মাঝপথে এসে হাতটা ছেড়ে দিয়েছিল।

আমার খুব খারাপ লাগে

 আমার খুব খারাপ লাগে। আমার সব প্রিয় মানুষগুলো আমাকে একে একে দূরে ঠেলে দিচ্ছে। তাদের ইগ্নরিংটা দেখে আমার খুব কষ্ট হয়। তাদের ওয়ালে আমার দেওয়া ম্যাসেজগুলো এখন খুব অবহেলায় পড়ে থাকে। আমার চোখে চোখ রেখে কথা বলার সময় তাদের হয় না। তারা এখন আর আমাকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে না। তারা আমার অভিমানগুলো দেখতে পায় না। হারিয়ে যাচ্ছে তারা দিন দিন। যত্নের অভাবে হয়ত একদিন সৃতিগুলোও একদিন হারিয়ে যাবে। তাদের স্থানে এখন চলে আসছে নতুন জন। আমার এখন সময় কাটে অন্য কারো সাথে কথা বলে। আমার হাসি-কান্না, বৃষ্টিবিলাশ এখন অন্য কাউকে নিয়ে। তবুও আমার খুব খারাপ লাগে। আমার সব প্রিয় মানুষগুলো আমাকে একে একে দূরে ঠেলে দিচ্ছে।

তোমায় দিলাম অযুত জারুল ফুল

তোমায় দিলাম অযুত জারুল ফুল  তোমায় দিলাম হিজল ফুলের বন  রোজ নিশিথে একলা থাকার কালে  আমায় দিও খানিক তোমার মন। আমায় দিও একটুখানি ছায়া  একটু দিও শান্ত শীতল জল তোমার জন্য বুকের ভেতর তবু সাত সাগরের অশ্রু টলমল। আমার ভোরের আলোক জুড়ে দ্বিধা   আমার সকাল বিষণ্ণতায় ঠাসা  এক জনমের রাত্রি দিবসজুড়ে  তোমার নামেই নিত্য যাওয়া আসা  আমায় দিও একটুখানি ছুঁয়ে  আমায় দিও একটুখানি মন  এই জনমের জন্ম মৃত্যু জানে তুমি মানেই আমার সমর্পণ।                   ---------- সাদাত হোসাইন 

তোমাকে আসতেই হবে

তোমাকে আসতেই হবে আমার কাছে তোমাকে বসতেই হবে আমার পাশে তোমাকে শুনতেই হবে আমার কথা তোমাকে বুঝতেই হবে আমার ব্যাথা না। তোমাকে ছাড়ায় আমার চলবে না চলবে না, তোমাকে ছাড়া চলবে না আমি তোমাকে ছাড়া নীল জোছনা ওই নীল জোছনা আমি তোমাকে ছাড়া দেখব না।                                                             (আংশিক)              A song by Joy Shahriar

ব্যস্ত নগরী

ভোরের আলো ফুটতে শুরু করেছে। আর কিছুক্ষণ পরই ব্যস্ত হয়ে পরবে ব্যস্ত নগরীর মানুষেরা। মায়েরা তাদের বাচ্চাদের নিয়ে ছুটবে সকালের কোচিং'এ। বাবারা জ্যামের কারনে গাড়ী থেকে নেমে হাঁটা ধরবে। ফ্লাইওভারের গাড়িগুলাও হাই-স্প্রিডে চলে যাবে মাইলের পর মাইল। দক্ষিণের দোকানগুলো খুলে যাবে। আনাগোনা শুরু হবে খদ্দেরদের। ডিম আনতে দেরি করায় আবারো মিস মালিহা চড় বসাবে রিমির গালে। আবারো পাঁচ তলার অংকেল দোকানদার মামার সাথে গবেষণা শুরু করবে রাজনীতি নিয়ে। পাশের বাসা থেকে আবারো ভেসে আসবে মিউজিক প্লেয়ারের একটানা আত্মচিৎকার। কলেজ পড়ুয়া রাকিব কিছুটা আফসোস নিয়ে বেড়িয়ে পরবে কলেজের উদ্দেশে। এভাবেই চলে যায় ব্যস্ত নগরীর ব্যস্ত মানুষগুলোর ব্যস্ত জীবন। একসময় খুব খারাপ লাগত মানুষ হয়ে জন্মাইনি বলে। এখন আর তেমন লাগে নাহ। কারন আমাদের ক্লোনদের জীবন মানুষের মত এতো ব্যস্ত না।  

যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো এক বরষায়

ছবি
                                                             

সরি স্নেহা

স্নেহাও মাঝে মাঝে এভাবে তাকিয়ে থাকতো। যখন আমরা একসাথে ঘুরতে যেতাম। অনেক আবদারও করত অবশ্য। তবে লিজার মাঝে তেমন কিছুর আভাস দেখা যাচ্ছে নাহ। একটু পর পরই মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছে। বোধয় কারো সাথে ম্যাসেজিং করছে। স্বামী হিসেবে আমার এখন জিগ্যেস করা উচিত। কিন্তু ইচ্ছে করছে না। সমস্ত স্নায়ুকোষ এখন একযোগে বিদ্রোহ করে চলছে স্নেহাকে নিয়ে ভাবার জন্য। অনেকদিন পর তার কথা মনে পড়ল। প্রায় চার বছর।সাইকোলজি বলে অপরাধী বারবার তার অপরাধ প্লেইসে ফিরে আছে। ১০ বছর, ৫ বছর বা ১ বছর পরই হোক না কেন, ফিরে আসে। আমার ক্ষেত্রে সময়টা চার বছর। বাহিরে বৃষ্টি পরা আরাম্ভ হয়েছে। রেস্টুরেন্টের ভিতর থেকে দেখতে তেমন একটা ভাল লাগছে না। তবুও খারাপ না। বৃষ্টিতে প্রকিতি যেন নতুন করে প্রান ফিরে পায়। সতেজ হয়ে উঠে চারপাশ। হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে উঠল। সেটা বৃষ্টির কারনেই হোক নাহয় স্নেহার কারনে।আসলে বাচ্চাটার সাথে আমি এমনটা না করলেও পারতাম। সেতো আমাদেরই সন্তান ছিল। আমাদের ভালবাসায় তৈরি। স্নেহার কথাগুলো সেদিন আমার ভাল্লাগেনি। তবে আজ কেন জানি মনে করে ভাল লাগছে। পাশের টেবিলে দুজন কপোত-কপোতী উচ্চস্বরে কথা বলছে। তার বেশিরভাগটাই এদিকে ভেসে আসছে। ম...