আমি
নাবিলের জন্মতেও আমি ততটা খুশি হয়নি যতটা নিলার মৃত্যুতে কষ্ট পেয়েছিলাম। সত্যি বলতে আজও আমি নাবিলের দিকে বাবার দৃষ্টি নিয়ে তাকাইনি। মনের মধ্যে সবসময় একটা ক্ষোভ ছিল। যে সন্তান জন্মের সময়ই তার মাকে মেরে ফেলে সে আর যাই হোক ভালবাসায় সৃষ্টি হয়নি। কিন্তু নাবিল ছিল অন্যরকম। সবসময় হাসিখুশি। আমার অবহেলা কখন কষ্ট হিসেবে তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। আমি কখন তাকে ঘুরতে নিয়ে যায়নি। কখন তার আঁকা ছবিগুলো দেখতে চাইনি। রাতে বাড়ি ফিরার পর কখন তাকে জিজ্ঞেস করিনি সে খেয়েছে কিনা। স্কুলের টিচাররা যখন কোন কনভারসেশনে ডাকতো প্রতিবারই আমি কোন না কোন নতুন অযুহাত তৈরি করে সূক্ষ্মভাবে তা এড়িয়ে যেতাম। আমার জিবনে নাবিলের কখনই কোন স্থান ছিল না। নাবিলের কাছে হয়ত ছিল, তাই হয়ত তার বেডরুমে আঁকা ছবিগুলোর মধ্যে সবচেয়ে উপরে ছিল আমার আর নিলার মাঝখানে ছোট্ট একটা নাবিল।
নিলার ফ্যামিলি কখন আমার আর নিলার বিয়েটাকে মেনে নেয়নি। কিন্তু নিলা সবসময় বিশ্বাস করত একদিন না একদিন তারা আমাদের মেনে নিবেন। আমি খুব বড় একটা চারকি করতাম না। ব্যাংকার। নিলাকে খুশি করার জন্য খুব বেশি কিছু করতে পারতাম না। তবুও আমরা খুব খুশি ছিলাম। সবচেয়ে বেশি খুশি হয়েছিলাম যখন জানতে পারলাম আমাদের নতুন অতিথি আসছে। পাশের বাসার বারান্দায় শুকাতে দেওয়া ছোট ছোট মোজাগুলা দেখলেও তখন ভাললাগত। আমাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হত। অনাগত বাচ্চার নাম রাখা নিয়ে। তারপর হুট করেই একসময় অপেক্ষার দিনটি চলে আসলো। নিলার ছিল ডিফিকাল্ট প্রেগ্নেন্সি। সেদিন আইসিওর বাহিরে ডাক্তার আমাকে সুসংবাদ না দিয়ে দিয়েছিল নিলার মৃত্যুর সংবাদ। সেদিন নিলার ফ্যামিলি আমাদের মেনে নিয়েছিল। কিন্তু নিলা আর ছিল না।
আজও আমি আইসিওর বাহিরে দাঁড়িয়ে আছি। নিলার জন্য না, নাবিলের বাবা হয়ে। সবাই যখন এ/বি নেগেটিভ রক্তের জন্য ছোটাছুটি করছে আমি তখন নির্বিকার ভঙ্গিতে দেয়ালে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। আমার এখন ঠিক কি করা উচিৎ? নাবিলের জন্য এ/বি নেগেটিভ রক্ত খোঁজা নাকি সেই ট্রাকটাকে দোষারোপ করা যে নাবিলকে চাপা দিয়েছিল। আমার জিবনে নাবিলের কখনই কোন স্থান ছিল না। তবে আজ কেন যানি ভেতরে খুব চাপা একটা কষ্ট হচ্ছে। মনে হচ্ছে মাথার ভেতর কে জানি চিৎকার করে বলছে, “আমি নিলাকে হারাতে পারি,কিন্তু নাবিল না”।
12/17/2016
8:01
R a bah! Joss hoise! Carry on...
উত্তরমুছুনগল্পটা দারুন লাগল
উত্তরমুছুন