আয়না- Mirror

সারারাত ধরে বৃষ্টি হল। এত প্রবল বৃষ্টি শহরবাসি খুব কমই দেখছে। বৃষ্টির শব্দ আর সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতকের কান্না মিলে একাকার। দুজনেই নিজের শক্তি জাহির করার চেষ্টা করছে। শেষটায় নবজাতকের পরাজয় ঘটল। বৃষ্টি একাই অবিরাম ভাবে চলতে লাগলো। একটা সময় সকাল হল, বৃষ্টি থামল। শহরের মানুষ আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ল নিজেদের নিয়ে। নবজাতকের কথা তাদের মনেই রইল না। রাস্তার এক পাশে সে পরে রইল নিজের মত করে। একসময় ঠাণ্ডায় তার নিউমোনিয়া হয়ে গেল। এখান আর তার কান্নার শক্তি নেই, সে ঘুমিয়ে পড়ল। ধরাধরি করে সে এবার হসপিটালেও পৌঁছে গেল। ডাক্তার মইনুদ্দিন তার কপালে হাত রেখে স্নেহের দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে রইলেন। নবজাতক তার হাতের স্পর্শ পেয়ে ছোট ছোট চোখ খুলে তাকাল। যদিও এতো ছোট বাচ্চা হাসতে পারে না , তবুও মইনুদ্দিনের মনে হল নবজাতক তার দিকে তাকিয়ে মলিনভাবে হাসল।    


এ ঘরের একটি বাচ্চার নাম আয়না এবং পুরো বাড়িতে কোন আয়না নেই। তার একটিই কথা আমি থাকতে এ বাড়িতে আর কোন আয়না থাকতে পারবে না। মইনুদ্দিন তার বিশাল বাড়িতে কোন আয়না রাখেন নি। আয়না অনেক অদ্ভুত খেলা খেলে। সে অনেক অদ্ভুত কিছুও লিখে যা একমাত্র আয়না ছাড়া পড়া সম্ভব নয় কারন তার লেখাগুলা হয় উল্টা করা। একমাত্র অটিজম শিশুরাও এভাবে লেখে, তাদের মাথায় অনেক কিছু উল্টাভাবে আসে। আয়নার সে সমস্যা নেই, সে কেন উল্টা করে লিখবে। মইনুদ্দিন প্রায় সময় তাকে নিয়ে হতাশায় ভুগেন। আয়নার মধ্যে কিছু অস্বাভাবিকতাও আছে। একদিন মুইনুদ্দিন শুনলেন আয়না শুয়ে শুয়ে কার সাথে কথা বলছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কার সাথে কথা বলছ আয়না? আয়না ঘুমের ভান করল, জবাব দিল না। তিনি সকালে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করবেন মনে করে দুশ্চিন্তা নিয়ে ঘুমাতে গেলেন। সকালে আয়না ঘুম থেকে উঠে খুব সহজভাবেই রুম থেকে বের হয়ে এলো। যেন কাল রাতে কিছুই হয় নি। মইনুদ্দিন ভাবলেন এত সুন্দর নিস্পাপ একটা বাচ্চাকে সাইক্রিয়াটিস্টের নেওয়ার কোন মানে হয়না। 


মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বৃত্তবন্ধি

কেন মেঘ আসে - পর্ব ৪