প্রোজেক্ট থার্টি ফোর - (পার্ট 1)
চোখ মেলতেই ঘরের বিশালতা চোখে পড়ে। আকাশ ছোঁয়া বাড়ি। তবুও কোথায় যেন শূন্যতা। হঠাৎ মনে হল মাথার ভেতর কেউ যেন বলে উঠলো, “তোমার নাম রেবা। সি’ ফোর ফিফটিনে তোমাকে আবারো স্বাগতম। প্রায় সাথে সাথেই কেউ একজন ঘরে প্রবেশ করল। রেবা অবাক হয়ে তার দিকে তাকিয়ে আছে। কুচকুচে কালো চুল আর আকাশের মত নীল চোখের সুদর্শন কেউ একজন তার দিকে এগিয়ে এলো। নিজের অজান্তেই রেবা শোয়া থেকে উঠে বসলো। সে এই প্রথম লক্ষ্য করল বিশাল এই ঘরে তার শোবার বেড, চেয়ার আর মাথার কাছের যন্ত্রপাতি ছাড়া আর কোন আসবাবপত্র নেই। আগুন্তুক চেয়ার টেনে তার মুখোমুখি বসলো। হাসিমুখে বলল, “কেমন আছ রেবা?”
“আমি ভাল আছি ডেভিস।”
ডেভিস অবাক হয়ে তাকাল। বলল, “তার মানে কম্পিউটার আলফা তোমাকে আমার পরিচয় বলে দিয়েছে?”
“হুম, একটু আগে বলল। আগে ভেবেছিলাম মাথার ভেতর কথা শোনা আমার কল্পনা, এখন বুঝতে পারছি আলফা এই কাজ করেছে। তা যাই হোক, তুমি কিন্তু খুবই সুপুরুষ ডেভিস। তোমার মত রূপবান মানুষ আমি আর কখন দেখিনি।”
ডেভিসের হাসি আরো বিসৃত হল। সে সময় নিয়ে বলল, “তুমি আসলেই আমাকে ছাড়া অন্য কোন মানুষকে কখন দেখনি।”
রেবা অনেক চেষ্টা করেও অন্য কারো ছবি মনে করতে পারছে না। মাথাটা পুরো ফাঁকা। যেন এই মাত্র তার নতুন করে আবার জন্ম হয়েছে। সে ডেভিসের দিকে ভ্রূ কুচকে তাকাল।
ডেভিস পা ভাঁজ করে বলল, “আমি তোমার আগের সমস্ত সৃতি নষ্ট করে ফেলেছি। তুমি এখন নতুন করে বাঁচবে রেবা। শুধু আমার জন্য বাঁচবে।”
রেবা তার শান্ত শীতল নীল চোখের দিকে তাকাল। কি শীতল, কিভাবে এই মানুষটা এমন একটা কাজ করতে পারল। সে হাত দিয়ে চোখ মুখ ঢেকে বলল, “কেন? কেন এমনটা করলে আমার সাথে?”
“কারন তুমি খুবই দুঃখী ছিলে রেবা। তোমার একটা ছোট ছেলে ছিল, সে তোমার সামনেই ট্রেন অ্যাকসিডেন্ট করে মারা যায়।”
রেবা চোখের সামনে দেখতে পেল সে তার শিশুপুত্রকে নিয়ে মাটির নিচের প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আছে। হিস হিস করে অন্ধকার থকে ট্রেন বেরিয়ে আসছে। এখন এটাকে জন্তুর মত দেখাচ্ছে। যাত্রীরা সবাই তাড়াহুড়া করে হাঁটছে। এমন সময় কিভাবে যেন তার ছেলে ট্রেন লাইনে পড়ে গেল। চোখের সামনে শুধু এইটুক ভাসছে। কম্পিউটার সিডিসি তাকে দেখাচ্ছে। সে চিৎকার করে বলল, “থামো।” সাথে সাথে সব থেমে গেল। আর ট্রেনের শব্দ আসছে না। সব আগের মত, নীরব- নিরিবিলি। চাইলেও সে এখন আর সে সব সৃতি মনে করতে পারবে না। তারা আর তাকে কষ্ট দিতে পারবে না।
ডেভিস আরো কাছে এসে ফিসফিসিয়ে বলল, “আমি কি ভুল করেছি?”
রেবা তার জবাব না দিয়ে তার কাঁধে মাথা রাখল।
বিজ্ঞান একাডেমী থেকে আটাশ বছর বয়সি রেবা জেনিসের ফাইলটা ক্লোজ করে দেওয়া হয়েছে। তদন্তকারী দল রিপোর্ট দিয়েছে যে মহাকাশযান সি’ ফোর ফিফটিন তার বারোজন নভোচারী নিয়ে মহাকাশের কোথাও না কোথাও বিধ্বস্ত হয়েছে। তাদের খুঁজে বের করার জন্য এখনো কাজ চলছে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন