সরি স্নেহা

স্নেহাও মাঝে মাঝে এভাবে তাকিয়ে থাকতো। যখন আমরা একসাথে ঘুরতে যেতাম। অনেক আবদারও করত অবশ্য। তবে লিজার মাঝে তেমন কিছুর আভাস দেখা যাচ্ছে নাহ। একটু পর পরই মোবাইলের দিকে তাকাচ্ছে। বোধয় কারো সাথে ম্যাসেজিং করছে। স্বামী হিসেবে আমার এখন জিগ্যেস করা উচিত। কিন্তু ইচ্ছে করছে না। সমস্ত স্নায়ুকোষ এখন একযোগে বিদ্রোহ করে চলছে স্নেহাকে নিয়ে ভাবার জন্য। অনেকদিন পর তার কথা মনে পড়ল। প্রায় চার বছর।সাইকোলজি বলে অপরাধী বারবার তার অপরাধ প্লেইসে ফিরে আছে। ১০ বছর, ৫ বছর বা ১ বছর পরই হোক না কেন, ফিরে আসে। আমার ক্ষেত্রে সময়টা চার বছর। বাহিরে বৃষ্টি পরা আরাম্ভ হয়েছে। রেস্টুরেন্টের ভিতর থেকে দেখতে তেমন একটা ভাল লাগছে না। তবুও খারাপ না। বৃষ্টিতে প্রকিতি যেন নতুন করে প্রান ফিরে পায়। সতেজ হয়ে উঠে চারপাশ। হঠাৎ মনটা খারাপ হয়ে উঠল। সেটা বৃষ্টির কারনেই হোক নাহয় স্নেহার কারনে।আসলে বাচ্চাটার সাথে আমি এমনটা না করলেও পারতাম। সেতো আমাদেরই সন্তান ছিল। আমাদের ভালবাসায় তৈরি। স্নেহার কথাগুলো সেদিন আমার ভাল্লাগেনি। তবে আজ কেন জানি মনে করে ভাল লাগছে। পাশের টেবিলে দুজন কপোত-কপোতী উচ্চস্বরে কথা বলছে। তার বেশিরভাগটাই এদিকে ভেসে আসছে। মেয়েটার কণ্ঠে রাগ প্রকাশ পাচ্ছে। আর ছেলেটা তাকে বুঝনোর চেষ্টা করছে। কোন এক অজানা কারনে তাদের দুজনেরই আজ মেজাজ খারাপ। দুজনেই বাসায় গিয়ে ফোন বন্ধ করে বসে থাকবে। এবরশনের কথা বলার পর স্নেহাও ঠিক মেয়েটার মত রিয়েক্ট করেছিল। কিন্তু আমি তখন ব্যস্ত ছিলাম আমার ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে। আমার নতুন চাকরি, ফ্যামিলি কোন কিছুই সে বুঝতে চাচ্ছিল না। আমি ভিতু মানুষ। তাই সেদিনের পর আর কখন তার সাথে যোগাযোগ করিনি। পরে অবশ্য শুনেছিলাম, প্রেগন্যান্ট থাকা অবস্থায় সে একজন ডিভোর্স, নিঃসন্তান লোককে বিয়ে করেছিল। আর লোকটি না চাইতেও আমাকে আবার ভিতু প্রমান করে দিল। পাশের টেবিলের কপোত-কপোতীরা এখন প্রায় শান্ত। মেয়েটা কাঁদছে। তার চোখে লেগে থাকা কাজল আরো লেপটে যাচ্ছে। সেদিকে তার খেয়াল নেই। লিজাও প্রতিদিন রাতে এভাবে কাঁদে। সেদিন রিপোর্টে কি এসেছিল আমি জানিনা। আমি শুধু জানি সেদিন তার জড়িয়ে ধরে বলা কথাগুলো। আমার স্ত্রী কোনদিন মা হতে পারবেনা। আমি নিঃশব্দে চেয়ার ছেড়ে সামনের দিকে এগিয়ে গেলাম। পেছন থেকে লিজা কিছু একটা বলল কিন্তু শুনতে পেলাম নাহ। কাচের দরজা ঠেলে বাহিরে এসে দাঁড়ালাম। বৃষ্টিতে শহুরে মানুষের জীবনযাত্রায় কিন্তু এইটুকুও পরিবর্তন আসেনি। সবাই নিজের কাজে ব্যস্ত। আমিও ঢুকে পরলাম ব্যস্ত মানুষদের ভিড়ে। জানি আমার গায়ের দামি কোটটায় বৃষ্টির পানি পরছে। তবুও কেন জানি স্নেহার কথা মনে হচ্ছে। খুব করে। কখন যদি পথ চলতে দেখা হয়ে যায় ওকে শুধু আমি একটা কথাই বলব, "সরি স্নেহা"

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বৃত্তবন্ধি

কেন মেঘ আসে - পর্ব ৪